লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ইঞ্জিনচালিত রাবারের নৌকা দিকভ্রান্ত হয়ে এবং তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে ১৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর গত শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) গভীর রাতে গ্রিক কোস্টগার্ড ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে ২১ জন বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
- দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে প্রতিকূল আবহাওয়ায় নৌকাটি পথ হারায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, ছোট একটি নৌকায় ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।
- মৃতদের পরিচয়: নিহত ১৮ জন বাংলাদেশির অধিকাংশের বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলারই রয়েছেন ৫ জন যুবক:
- মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)
- মো. সাহান এহিয়া (২২)
- মো. সাজিদুর রহমান (২৬)
- মুজিবুর রহমান (৪০)
- মো. তারেক মিয়া (২৩)
- মরদেহ সাগরে নিক্ষেপ: বেঁচে ফেরা কিশোরগঞ্জের এক যুবকের ভিডিও বার্তায় জানা গেছে, মৃতদেহগুলো দুই দিন নৌকায় রাখা হয়েছিল। পরে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ালে পাচারকারীদের নির্দেশে ১৮টি মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
- উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ: গ্রিক কোস্টগার্ড ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে (২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন সুদানি ও ১ জন চাদের নাগরিক)। মানব পাচারের অভিযোগে ১৯ ও ২২ বছর বয়সি দুজন সুদানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ভয়াবহ পরিসংখ্যান: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই ৫৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গ্রিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে যাতে উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং নিখোঁজ ও মৃতদের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাইসহ সিলেট অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



















