ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করতে আজ শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত এই সংসদের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) উদ্দেশে বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- শোক প্রস্তাব ও মোনাজাত: সভার শুরুতেই জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)-এর সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। উল্লেখ্য, তিনি আজ দুপুরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
- সংসদীয় কার্যক্রম ও আইন প্রণয়ন: বৈঠকে বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন যেন প্রতিটি বিল পাসের ক্ষেত্রে জনমত ও সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনার প্রতিফলন ঘটে।
- রাজনৈতিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন যে, এই সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার। তাই সংসদীয় কমিটির বৈঠকগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত থেকে এবং জনগণের সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান যে, আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদীয় অধিবেশনে জ্বালানি সংকট ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। আজকের এই বৈঠকটি মূলত সংসদীয় দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রণকৌশল নির্ধারণের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।



















