জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। চিঠিতে এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
চিঠির মূল বক্তব্য ও ইরানের অবস্থান:
- হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া সামরিক আগ্রাসনের সময় কাতারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আক্রমণকারীদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) তাদের মাটি ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন সাঈদ ইরাভানি।
- ক্ষয়ক্ষতি ও দায়বদ্ধতা: ইরান জানিয়েছে, এসব দেশ থেকে পরিচালিত হামলায় তাদের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাতারকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে ইরান দাবি করেছে।
- পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার হিসেবে যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে ইরান ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। বেসামরিক প্রাণহানি রোধে যেকোনো আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরান সংরক্ষণ করে।
- পূর্ববর্তী পদক্ষেপ: এর আগে গত ৩, ৭, ৯ এবং ১৬ মার্চও ইরান একই বিষয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়েছিল। এই নতুন চিঠিটিকে নিরাপত্তা পরিষদের একটি দাপ্তরিক নথি হিসেবে প্রচার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টার বিপরীতে এই দেশগুলোর অবস্থানকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছে ইরান। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



















