জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টাকে মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ সম্বলিত একটি চিঠি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা নিরসনে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) মন্ত্রণালয় জানায়, বিরোধীদলীয় নেতা লিখিত সম্মতি দিলে তারা ওই চিঠিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে:
- চিঠির প্রাপ্তি ও বিষয়বস্তু: গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ইলেকট্রনিক মাধ্যম এবং সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। সংসদের প্যাডে লেখা ওই চিঠিতে ড. হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল।
- সুপারিশের ধরন: চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নিতে তাঁকে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
- ভুল তথ্যের প্রতিবাদ: একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ফোনালাপ হয়নি এবং আমিরে জামায়াত এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না—এমন কোনো তথ্য ফোনে জানানো হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর পদক্ষেপ:
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী একটি পৃথক বিবৃতি প্রদান করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তাঁর দপ্তর থেকে ওই চিঠিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতার সই করা চিঠি তাঁর অজান্তে কীভাবে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



















