মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ২ কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বিশেষ ভার্চুয়াল সভায় এই এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা এই গ্যাস আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৬২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এলএনজির দামেও। তবুও দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটাতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে এই জরুরি কেনাকাটা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে এটি হবে এলএনজি আমদানির তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়।
আমদানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
| কার্গো সরবরাহের সময় | সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান | প্রতি ইউনিট দর (ডলার) | মোট ব্যয় (এআইটিসহ) |
| ১৫-১৬ মার্চ, ২০২৬ | গানভর সিঙ্গাপুর প্রা. লিমিটেড | ২৮.২৮ ডলার | ১,৩০০.৭১ কোটি টাকা |
| ১৮-১৯ মার্চ, ২০২৬ | ভিটোল প্রা. লিমিটেড | ২৩.০৮ ডলার | ১,০৬১.৫৪ কোটি টাকা |
মূল বিষয়সমূহ:
- আমদানির পরিমাণ: প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩৫ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে (সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ লাখ এমএমবিটিইউ পর্যন্ত হতে পারে)।
- বিনিময় হার: সোনালী ব্যাংকের ৪ মার্চের মুদ্রা বিনিময় হার (১ ডলার = ১২২.৭০ টাকা) অনুযায়ী এই ব্যয় হিসাব করা হয়েছে।
- পরিশোধ প্রক্রিয়া: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত এলএনজি চার্জ খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পেট্রোবাংলা এই মূল্য পরিশোধ করবে।



















