পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পৃথক বার্তার মাধ্যমে তাঁরা এই শুভেচ্ছা জানান। প্রেসিডেন্ট জারদারি তাঁর বার্তায় বিএনপির এই বিজয়কে ‘ভূমিধস বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতে নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
আঞ্চলিক শান্তি ও যৌথ অগ্রগতির প্রত্যাশা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ তাঁর অভিনন্দন বার্তায় দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে আমি নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” পাকিস্তানের এই শীর্ষ নেতৃত্ব আশা প্রকাশ করেছেন যে, সার্ক-এর মতো আঞ্চলিক ফোরামগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
কূটনৈতিক তাৎপর্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের পর পাকিস্তানের এই দ্রুত অভিনন্দন বার্তা তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও মজবুত করল। বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রতিবেশী দেশগুলোর এই ইতিবাচক সাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানও তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে সার্ককে কার্যকর করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলে আসছেন। পাকিস্তানের এই বার্তা সেই সম্পর্কের বরফ গলানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















