সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটের ভোটগ্রহণ। ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকার আজিমপুর, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার মধ্যেই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও দলগত অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের সাক্ষী হচ্ছে দেশ। এবারের নির্বাচনে ৫টি মূল ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
- অংশগ্রহণ: মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
- মূল প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
- প্রার্থিতা: ২৯৯টি আসনে মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৩ জন।
- ভোটার সংখ্যা: দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার আজকের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
কঠোর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির নজরদারি ভোটের মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করা হচ্ছে। সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে:
- ড্রোন ও সিসিটিভি: আকাশপথে ৫০০-এর বেশি ড্রোন এবং ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি ঢাকা থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
- বডি-ওর্ন ক্যামেরা: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যের পোশাকে ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
- গণভোট: ভোটাররা স্থানীয় এমপির জন্য একটি সাদা ব্যালট এবং গণভোটের (জুলাই সনদ) জন্য একটি গোলাপি ব্যালট ব্যবহার করছেন।
পোস্টাল ব্যালট ও ফলাফলের প্রত্যাশা ইসি কমিশনাররা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে রেকর্ড সংখ্যক (প্রায় ১১ লাখ ৬৩ হাজার) প্রবাসী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত নাগরিক ভোট দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আশ্বস্ত করেছেন যে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের ফলে ফলাফল ঘোষণায় কোনো দীর্ঘসূত্রিতা হবে না। আগামীকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালের মধ্যেই দেশের পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।



















