‘গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না’; শিল্প ও কৃষি খাতের উন্নয়নে নতুন রূপরেখা ঘোষণা
গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনমানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সেই মহান আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচারী শক্তির বিদায় হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার। তিনি বিশ্বাস করেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে গাজীপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই জেলা শুধু একটি শিল্পনগরী নয়, বরং এটি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের (গার্মেন্ট) রাজধানী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে এই গার্মেন্ট শিল্পের সূচনা করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সাথে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াও তিনিই শুরু করেছিলেন। শিক্ষা খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রবর্তিত বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। বিএনপি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে নতুন নতুন কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে খেটে খাওয়া মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং নারী শ্রমিকদের সন্তানদের সঠিক লালন-পালনের জন্য আধুনিক ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া গাজীপুরের অন্যতম বড় সমস্যা জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের যানজট নিরসনে সেখানে একটি বিশাল ওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
শ্রমিকদের কল্যাণে তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, শ্রমিক অধ্যুষিত এই অঞ্চলে তাদের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শ্রমিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ বা স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় জেলার প্রধান তিন নদী—চিলাই, তুরাগ ও লবনদহ খাল খনন করে ভরাট ও দূষণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সবশেষে তিনি আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান এবং ভোটকেন্দ্র দখল প্রতিরোধে সমর্থকদের ফজরের নামাজের পরপরই কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন।



















