রবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের ‘জুয়া’, লাভ কাদের?

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসী অবস্থানের পর ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানির নির্বাহীদের মন জোগাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই অভিযানের প্রকৃত লক্ষ্য—ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম সম্পদকে করপোরেট মুনাফার জন্য উন্মুক্ত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করার মতো পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জ্বালানির দাম কমানোর কোনো বাস্তব উদ্দেশ্য নেই, নেই দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনর্গঠনের সদিচ্ছাও। বরং এটি রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য ‘নিরাপদ’ করার একটি সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের অংশ।

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসম্পদসমৃদ্ধ দেশ। দেশটির প্রমাণিত তেল মজুদের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। কিন্তু এই বিপুল সম্পদ তখনই আন্তর্জাতিক পুঁজির কাছে আকর্ষণীয় হয়, যখন রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে বা ‘নিরপেক্ষ’ করা যায়। আর এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই সবচেয়ে বড়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের তেলকেন্দ্রিক আগ্রাসন নতুন কিছু নয়। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব মূলত তেল নিয়ন্ত্রণের লড়াই। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএকে বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এতে সমাজতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে মৌলিক বিচ্ছেদ ঘটত।

সে সময় এক্সনমোবিল, কোচ ব্রাদার্সসহ বড় করপোরেশনগুলো ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নজর রেখেছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ছিলেন এক্সনমোবিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী। অনুসন্ধানী সাংবাদিক গ্রেগ প্যালাস্টের মতে, কোচদের টেক্সাসভিত্তিক রিফাইনারিগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। হুগো চাভেজ সরকার তেলের দাম বাড়ালে তারা ক্ষতির মুখে পড়ে, ফলে সরকার পরিবর্তন তাদের জন্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন হয়ে ওঠে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গুয়াতেমালা, চিলি কিংবা ইরাক—সব ক্ষেত্রেই সরকার উৎখাতের পর করপোরেট বিনিয়োগ বেড়েছে এবং সামাজিক ব্যয় কমেছে। ইরাকে হ্যালিবার্টন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেলেও দেশটির জনগণ পেয়েছে ধ্বংসস্তূপ ও অস্থিরতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তেল কোম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্য বেশি তেল উত্তোলন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। কারণ অতিরিক্ত সরবরাহ তেলের দাম কমিয়ে দেয়, যা তাদের মুনাফার জন্য ক্ষতিকর। ভেনেজুয়েলার তেল দখলের উদ্দেশ্য বাজার ভরানো নয়, বরং একটি বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডারকে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানানো।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার সংকট কোনো মানবিক বা গণতান্ত্রিক প্রশ্নের চেয়েও বেশি করে তেল, পুঁজি ও রাষ্ট্রীয় শক্তির সম্পর্কের আরেকটি অধ্যায়। এখানে মূল লক্ষ্য হলো একটি সার্বভৌম দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে করপোরেট মুনাফার জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত করে তোলা।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত