ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিতে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই দিন পর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ভোরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্টন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান।
পুলিশ জানায়, ওসমান হাদির এক আত্মীয় মামলার বাদী হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন পল্টন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইয়াসিন মিয়া। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগকালে বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে।
আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
এদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে রবিবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি আততায়ীর পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
র্যাব জানিয়েছে, রবিবার রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু ও বান্ধবী মারিয়া। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে ও পরে ফয়সালের সঙ্গে তাদের ঘনঘন যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব আরও জানায়, ফয়সালের স্বাক্ষর করা বিপুল পরিমাণ চেকবই ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ তিন সন্দেহভাজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



















