ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর গ্রামের মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের বাড়িতে যায়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
‘এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, সংবাদমাধ্যমে পরিবারটির দুর্দশার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তাঁর নির্দেশে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রতিনিধিদলটি সেখানে যায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে তাঁরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভবিষ্যতেও অসহায় ও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারায় পাঁচ বোন
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম ৩১ দিনের ব্যবধানে মারা যান বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে ফরিদা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর নিজ বসতঘর থেকে আবুল কালাম আজাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মা-বাবাকে হারানোর পর পাঁচ কন্যার পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাঁদের দুরবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


















