মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মিয়ানমারে বাজারে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৩৩

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জান্তা সরকারের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন। হতাহতদের মধ্যে বাজারে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারী ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের কিয়াকতাও শহরের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারের কাছে এ বিমান হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এ বিষয়ে আল জাজিরাও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, দুপুর ১২টার দিকে কিয়াকতাও শহরের একটি স্থানীয় পাইকারি বাজারের কাছে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি বোমা ফেলা হয়। এতে বাজার এলাকায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংগঠনটির দাবি, হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং এপিকে জানান, হামলার শিকার বাজারটি ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি কেন্দ্র। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিয়মিত ভিড় থাকত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কয়েকটি ভবনে আগুন এবং বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। কাছের একটি সেতুরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।

তবে হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে এ ধরনের হামলার বিষয়ে জান্তা সরকার দাবি করে আসছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে।

রাখাইনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে আরাকান আর্মি। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সংগঠনটি রাজ্যজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা।

সংঘাতের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর অবরোধের কারণে রাখাইনে খাদ্য ও মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে শুধু রাখাইন রাজ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আগস্টে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির কথা বলা হয়।

অন্যদিকে, আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (ACLED)-এর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ - অপরাধ