দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়াতে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ (পিওএফ)-এ আরও দুটি নতুন কারখানা চালু করছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কারখানা দুটিতে উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াহ শহরে অবস্থিত পিওএফ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুনিরের সফর দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর সামরিক নেতৃত্বের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
নতুন কারখানায় কী তৈরি হবে?
পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধানকে নতুন দুটি উৎপাদন কারখানা সম্পর্কে অবহিত করা হলেও সেখানে কোন ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
ওয়াহ শহরের পিওএফ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।
বাড়ছে প্রতিরক্ষা রপ্তানির উদ্যোগ
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটি গোলাবারুদ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান এবং যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের আলোচনা এগিয়েছে। এসব আলোচনায় পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যান বিক্রির বিষয়ও রয়েছে।
ইসলামাবাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়িয়ে একদিকে নিজেদের সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণ করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো।
বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়েও মুনিরকে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পিওএফকে করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয় রয়েছে।
চলতি বছর পাকিস্তান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (ডিপ্রা) নামে একটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে খাতটিকে আরও বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
দেশীয় অস্ত্রের পরীক্ষা দেখলেন সেনাপ্রধান
পরিদর্শনকালে আসিম মুনির পাকিস্তানে নকশা করা ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরীক্ষা ও ট্রায়াল প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
সামরিক বাহিনীর দাবি, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতিও আরও জোরালো হবে বলে আশা করছে ইসলামাবাদ।


















