শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

চীনে রোবটই বানাচ্ছে রোবট, ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি হিউম্যানয়েড

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

রোবট এখন শুধু মানুষের হয়ে কাজই করছে না, অন্য রোবট তৈরির কাজেও যুক্ত হচ্ছে। বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো শোনালেও চীনে বাস্তবে এমন একটি কারখানা চালু হয়েছে, যেখানে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সহায়তায় তৈরি হচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট। নতুন এই কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।

চীনের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক রোবোটিকস দেশটির গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌ শহরে এ কারখানা চালু করেছে। বড় পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে কারখানাটি।

কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, ১৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের কারখানাটির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ‘ওয়াকার এস’ ও ‘ক্রুজর’ সিরিজের শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা হয়। কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার রোবট।

রোবটই বানাচ্ছে রোবট

কারখানাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রোবট তৈরির বিভিন্ন ধাপেই অন্য রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউবিটেক ও সিমেন্স ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সফটওয়্যারের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে এই উৎপাদনব্যবস্থা।

পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে, যাকে ইউবিটেক ‘স্মার্ট ব্রেইন’ হিসেবে উল্লেখ করছে। কোম্পানির দাবি, এই ব্যবস্থা কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম সমন্বয় করে। কোন রোবট কখন তৈরি হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কোথায় নেওয়া হবে এবং তৈরি হওয়া রোবটের মান কীভাবে যাচাই করা হবে—এসব কাজেও এটি সহায়তা করে।

উৎপাদনপ্রক্রিয়ার প্রতিটি রোবটকে আলাদা সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়। ফলে কারখানায় প্রবেশের পর থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে রোবটটির গতিবিধি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসরণ করা সম্ভব হয়।

রোবটের কাজও করছে রোবট

কারখানায় রোবটগুলো শুধু চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে তৈরি হচ্ছে না; উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজেও হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইউবিটেক জানিয়েছে, তাদের ‘ক্রুজর ওয়াই১’ ও ‘ক্রুজর এস২’ মডেলের রোবট বিভিন্ন উপকরণ খালাস, স্তূপ করে রাখা, উৎপাদন লাইনে পৌঁছে দেওয়া এবং কারখানার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থাৎ, কিছু রোবট এমন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ পরিবহন করছে, যেগুলো পরবর্তী ধাপে আরও রোবট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় শুধু হিউম্যানয়েড রোবটই নয়, সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন লজিস্টিক যান, শক্তি-সহায়ক ম্যানিপুলেটর এবং ঘূর্ণনশীল ওয়ার্কটেবলও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর ফলে একই উৎপাদন লাইনে একাধিক ধরনের রোবট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি মডেলের জন্য আলাদা অ্যাসেম্বলি লাইন বা সম্পূর্ণ পৃথক উৎপাদনব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন হচ্ছে না।

কোম্পানির দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি তদারকি তুলনামূলকভাবে কম। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয়ে কারখানাটি প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে।

কারখানা ছাড়ার আগে ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’

হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হওয়ার পরই সেগুলো বাজারে পাঠানো হয় না। প্রতিটি রোবটকে একাধিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ইউবিটেক জানিয়েছে, কারখানায় তৈরি প্রতিটি হিউম্যানয়েড রোবটের ওপর চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। এ সময় রোবটটির বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কার্যকরী সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বাহ্যিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হয়।

রোবটের গঠন ও বাহ্যিক মান যাচাই করতে ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন করা হয়।

৬৫ বর্গমিটারে ১১২ রোবটের গুদাম

উৎপাদনের পর রোবট সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ইউবিটেকের দাবি, তাদের স্বয়ংক্রিয় গুদামে মাত্র ৬৫ বর্গমিটার জায়গার মধ্যে ১১২টি হিউম্যানয়েড রোবট রাখা যায়।

স্বয়ংক্রিয় গাইডেড ভেহিকল (এজিভি), চালকবিহীন ফর্কলিফট ও অন্যান্য লজিস্টিক যন্ত্র রোবট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশকে উৎপাদন, পরীক্ষণ ও সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে স্থানান্তর করে।

ফলে রোবট তৈরির পর সেগুলো গুদামে নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী সরানো এবং উৎপাদন লাইনে যন্ত্রাংশ পৌঁছে দেওয়ার কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

দ্রুত বাড়ছে চীনের রোবট উৎপাদন

ইউবিটেকের নতুন কারখানাটি এমন সময়ে চালু হয়েছে, যখন চীনে শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার ও উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। দেশটি গবেষণাগার ও পরীক্ষামূলক প্রকল্পের বাইরে রোবট প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্প উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীনে শিল্প রোবট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

নতুন বৃহৎ উৎপাদন কারখানা চালুর পাশাপাশি শিল্প রোবট উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, চীন রোবট প্রযুক্তিকে শিল্প উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বিস্তৃত করার দিকে এগোচ্ছে।

লিউঝৌয়ের নতুন কারখানায় রোবটের সহায়তায় রোবট তৈরির এই ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এখানে উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোবট, স্বয়ংক্রিয় যান, রোবোটিক বাহু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

রামিসা হত্যা: যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

তিন দফা দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মৎস্য ভবনের সামনে অবরোধ

২৫২ এসআইকে অব্যাহতি: জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন ঢাকার মডেল জেসিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের উত্তেজনা: বাংলাদেশ থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত

হরমুজ প্রণালি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা আইআরজিসির

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজারেরও বেশি হাজি