রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রবণতা। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়া কিংবা আবাসিক মিটারের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলছে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ। সড়কের পাশে, ফুটপাত ও আবাসিক এলাকার গলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি অপরাধ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চিহ্নিত অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩৬টি। পাশাপাশি অবৈধ গ্যারেজের সংখ্যা ৯৯২টি। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও অনেক এলাকায় কিছুদিন পর আবারও চালু হচ্ছে অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত নামলেই সড়ক ও ফুটপাতের পাশে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি তার টেনে নেওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব বৈদ্যুতিক তার পথচারী ও চালকদের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। সাতরাস্তা, দক্ষিণ বেগুনবাড়ী, বেগুনবাড়ী পোস্ট অফিস ও বিটাক-সিদ্দিক মাস্টার মোড় এলাকায় শত শত অটোরিকশা চার্জ দিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় দেড় শতাধিক গ্যারেজ রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়।
শুধু অবৈধ হুকিং নয়, আবাসিক মিটারের সংযোগ ব্যবহার করেও চলছে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাটারি চার্জের কার্যক্রম। মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক এলাকার গলিতে টিনশেডের একটি গ্যারেজে একসঙ্গে প্রায় ৩০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আবাসিক সংযোগের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জ বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ডেসকোর চলতি বছরের মে মাসের নথি অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন এলাকায় বৈধ চার্জিং সংযোগ রয়েছে ২ হাজার ৯৯৭টি। এসব সংযোগে প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাবে, সারা দেশে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ।
অবৈধ চার্জিং বন্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত জুলাইয়ে তেজগাঁও ও হাতিরঝিলে ডিপিডিসি ও ডিএমপির যৌথ অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সর্বশেষ ১৮ আগস্ট তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিলে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও চারটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়। এ সময় পুলিশ ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এক জায়গায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে অন্য জায়গায় গিয়ে আবারও চার্জিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তাই বৈধ ও অবৈধ অটোরিকশা চিহ্নিতকরণ, নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপন, পৃথক বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ব্যবহার অনুযায়ী বিল আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন জানান, অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা করবে।


















