মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে জ্বালানি অপচয় ও জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করে গত ছয় মাসে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা উচিত।
শনিবার কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেওয়ার আগে খোকসা থানা পরিদর্শন ও গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি অপ্রয়োজনীয়ভাবে জনগণের ভোগান্তি বাড়াবে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটাবে। তার দাবি, শুরুতে জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চের কথা বলা হলেও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হবে। পরে কর্মসূচির উদ্দেশ্য হিসেবে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ সংস্কার চায় এবং তারাও গণরায়ের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে সাংবিধানিক নিয়মে শপথ নেওয়ার পর দ্বিতীয় একটি শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও মতামত শুনেছেন। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মত দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে তিনি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা এখনো সেখানে অংশগ্রহণ করছে না। অন্যদিকে লংমার্চের নামে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি এবং জ্বালানি সংকটের সময়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সরকার সফল না ব্যর্থ—এটি মূল্যায়নের আগে গত ছয় মাসে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এর আগে সকালে খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
বিকেলে খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যোগ দেন ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে এতিম ও কোরআনের হাফেজদের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরীফ এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। পরে ওসমানপুর ইউনিয়নের সরকারি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলীসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


















