২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং এর আগের দুই বছরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণদের ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগ ছাড়াও পরস্পরের বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
সমান জিপিএ হলে মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞান এবং পরে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনা করা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান নম্বর হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে।
ভর্তি ফি
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, বিএনসিসি, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো কলেজ ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অননুমোদিত শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল হতে পারে।


















