মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়েই (২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাওয়ার কড়া হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে বাধ্য করার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের কথা জানিয়েছে দেশটি। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস (PBS)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল ও সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ রেজা নাকদি জানান, দীর্ঘায়িত যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে ভবিষ্যতে শত্রু আর কোনো আক্রমণের সাহস না পায়। তিনি দাবি করেন, বিগত পাঁচ মাসের প্রত্যক্ষ যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সাথে লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আমেরিকার সামরিক কাঠামোগত দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছে ইরান।
সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে জেনারেল নাকদি উল্লেখ করেন, ইরান কেবল ড্রোন বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; দেশটির দৈনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের পরিমাণের চেয়েও বেশি। যুদ্ধ দীর্ঘ বছর ধরে চললেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হবে না এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে সরবরাহ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। পরমাণু বোমার সম্ভাবনা খারিজ করে তিনি বলেন, মার্কিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জনমত জয় করাই তাদের প্রধান শক্তিকেন্দ্র। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক বোমার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনের সমস্ত সামরিক ঘাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।


















