চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারায় সারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল চিত্র ও কার্যকারিতা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে এ ধরনের ‘নামসর্বস্ব’ শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৭৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে মাত্র ১ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ৮ থেকে ১২ জন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োজিত ছিলেন। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শতভাগ ফেল করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশই (২২৬টি) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই উত্তরাঞ্চল, চরাঞ্চল ও দেশের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে অঞ্চলভেদে মাদ্রাসাপ্রধানদের ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ আ ম এহছানুল হক মিলন এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় এমপিও সুবিধা গ্রহণ করার পরও ন্যূনতম একাডেমিক সাফল্য দেখাতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















