একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীন ও কার্যকর সংবাদমাধ্যমই গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, তাই গণমাধ্যম শক্তিশালী ও পেশাদার হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী রূপ লাভ করে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়া কোনো নির্বাচনব্যবস্থা নয়, এটি একটি সামগ্রিক চর্চা ও সংস্কৃতি; যেখানে সহনশীলতা ও ভিন্নমতের প্রতি পরম শ্রদ্ধা প্রদর্শন আবশ্যক।
সেমিনারে তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রকার আত্মসেন্সরশিপের আশ্রয় না নিয়ে নির্ভীকভাবে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ পরিবেশনের উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সরকার, মালিকপক্ষ, বিজ্ঞাপনদাতা ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত ও সমন্বিত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতিও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ নেই উল্লেখ করে তিনি একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


















