বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা শরিক দল ও জোট নেতাদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই; তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’ আজ সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিকদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজ ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। শরিক নেতাদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘ছোট ভাই’ সম্বোধন করে ধৈর্য ধারণের তাগিদ দেন এবং স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে নীতিগত কারণে কোনো দ্বিমত থাকলেও যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনো বিভেদ বা ভুল বোঝাবুঝির স্থান নেই।
বক্তব্যের একপর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ না করে বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে যাদের কোনো রাজনৈতিক উপস্থিতি রাজপথে দেখা যায়নি, আজ তারা আন্দোলনের মিথ্যা দাবিদার হতে চাইছে। স্বৈরাচার পালানোর পর আত্মপ্রকাশ করা এই ‘গুপ্ত’ বাহিনীর চক্রান্ত থেকে দেশকে রক্ষায় শরিকদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপি ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখাকে দেশের আপামর জনগণের নিজস্ব ম্যান্ডেট হিসেবে আখ্যা দিয়ে এবং সরকার পরিচালনার স্বল্প সময়ে অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা সামাল দেওয়ার বাস্তবচিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সমমনা সকল দলকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর সহ ৪১টি রাজনৈতিক দলের প্রায় দেড় শতাধিক শীর্ষ নেতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ঐক্যবদ্ধ পথচলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



















