শুক্রবার , ১৭ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

Spread the love

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এক নতুন আন্তর্জাতিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে চীন। বিশ্বের ২৯টি দেশের সমন্বয়ে বেইজিং গঠন করেছে ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ওয়াইকো)’ নামের একটি শক্তিশালী জোট, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের প্রযুক্তিগত প্রভাব ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সাংহাইয়ে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে (ডব্লিউএআইসি) এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোটেও উচিত নয়; বরং এটি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের উন্মুক্ত ক্ষেত্র হওয়া বাঞ্ছনীয়। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই, ২০২৬) দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে শি জিনপিং বলেন, তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তি খাতে অন্য কোনো উদীয়মান দেশকে সীমাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।

এর আগে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন জোট ‘ওয়াইকো’-এর যাত্রা শুরু হয় এবং এর প্রধান সদর দপ্তরও সাংহাইয়ে স্থাপন করা হয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বা ‘গ্লোবাল সাউথ’ ভুক্ত ২৯টি রাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত এই জোটে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যোগ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তান। জোটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সশরীরে উপস্থিতি এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও বৈশ্বিক আইন প্রণয়নে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের মোক্ষম সুযোগ পাবে চীন। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, যা বিশেষ করে উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে এক প্রচ্ছন্ন ‘চিপ যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীন যাতে উন্নত প্রযুক্তির চিপ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য চিপ ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস। এর পাল্টা জবাবে চীনও চিপ ও আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনে অপরিহার্য হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস রপ্তানিতে কড়া সীমাবদ্ধতা জারি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতি উন্নত এআই চিপ উৎপাদনে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ডাটা সেন্টার, বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং খনিজ সম্পদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের কারণে দীর্ঘমেয়াদি এই স্নায়ুযুদ্ধে চীন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ অরিন্দ্রজিৎ বসু এ বিষয়ে আলজাজিরাকে বলেন, বৈশ্বিক সাইবার ও এআই নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যখন কিছুটা ধীরগতির বা পিছিয়ে রয়েছে, চীন ঠিক সেই বৈশ্বিক শূন্যস্থানকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সর্বশেষ - অপরাধ