দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ১৫ লাখ চাকুরিজীবীর পাশাপাশি এই নতুন কাঠামোতে পেনশনভোগীদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি পেনশন ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। ৩-৬ মে সমরখন্দে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অংশগ্রহণের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে এই বড় খবরটি চাকুরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পেনশন ও চিকিৎসা ভাতায় বড় পরিবর্তন প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাঁদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনপ্রাপ্তদের ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাতা বাড়তে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভিত্তিক ‘চিকিৎসা ভাতা’ চালুর প্রস্তাব। যেখানে ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা এবং তার নিচে বয়স অনুযায়ী ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমন্বয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ চলছে, সেখানে চাকুরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ বুধবারই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখবে।



















