আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বহুপ্রতীক্ষিত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফলাফল প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর সারা দেশে সর্বমোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। এর মধ্যে মেধাতালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করে ‘ট্যালেন্টপুল’ (Talentpool) গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী এবং ‘সাধারণ’ (General) গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ৪৬,২৮১ জন। ফল প্রকাশের পর থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন পোর্টাল এবং মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারছেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০টি (ট্যালেন্টপুল ৩৩,০০০ এবং সাধারণ ৪৯,৫০০) বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা বা কোটা থাকলেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৭৯,২৪৬ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫,৯৮২ জন (৪৫.২৯%) এবং ছাত্রী ৪৩,৩৫৪ জন (৫৪.৭১%)। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ আসন বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন (KG) স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মূল পরিসংখ্যান ও খতিয়ান
| পরীক্ষার ক্যাটাগরি ও বিবরণ | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন | সর্বমোট পরিসংখ্যান (২০২৬) |
| অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ৬৫,৬০৫টি | ১৩,২০৫টি | ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয় |
| নিবন্ধিত মোট পরীক্ষার্থী | – | – | ৬,০০,০৪১ জন (ছাত্র ২.৫৬ লাখ, ছাত্রী ৩.৪৩ লাখ) |
| পরীক্ষায় উপস্থিতির সংখ্যা | ৩,৪৪,১২৭ জন (৮২.০৯%) | ৭৫,৪৫৫ জন (৮৪.১৬%) | ৪,৮৩,৭৫৯ জন (উপস্থিতির হার ৮০.৫৩%) |
| ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রাপ্তি | ২৬,৩৭৫ জন | ৬,৫৯০ জন | ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী |
| সাধারণ গ্রেড বৃত্তি প্রাপ্তি | ৩৬,৪২০ জন | ৯,৮৬১ জন | ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থী |
| সর্বমোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী | – | – | ৭৯,২৪৬ জন (মোট কোটা ছিল ৮২,৫০০টি) |
কোটা বণ্টন ও আঞ্চলিক পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া
নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টি আসনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি আসন সম্পূর্ণ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিটিতে ৫টি করে (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) বণ্টন করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০% সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। এ বছর সারা দেশের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি, যার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি এবং ৯০ হাজার বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভৌগোলিক কারণে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই দুই গ্রেড অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মাসিক ও বার্ষিক আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।


















