ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজ্যে কোনো ধরনের ‘বুলডোজার নীতি’ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ্য করা হবে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, গত বুধবার থেকে রাজ্যে নতুন করে কোনো বড় সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: সিট গঠন ও সিবিআই তদন্তের দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যেখানে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে একটি পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই খুনে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আহত গাড়িচালকের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা আলোচনার প্রেক্ষিতে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, নিয়মানুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য নিরাপত্তা বহাল রয়েছে; কেবল অতিরিক্ত জনবল বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে স্থিতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের এই অস্থিরতা ও তদন্ত প্রক্রিয়া আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ে এবং অর্থমন্ত্রী সমরখন্দে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।


















