ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ভয়াবহ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) দিনভর চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে এবং মঙ্গলবারের এই হামলা সেই নির্মমতারই ধারাবাহিকতা।
দিনিপ্রো ও জাপোরিঝঝিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও মিনিবাসে ড্রোন হামলা
- দিনিপ্রোতে ধ্বংসযজ্ঞ: ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শিল্প শহর দিনিপ্রোতে রাশিয়ার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, এই হামলায় একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি স্কুল, ব্যক্তিগত আবাসন ও বেশ কয়েকটি যানবাহন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া দিনিপ্রোর গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি রাশিয়ার এই আগ্রাসন রুখতে ইউরোপীয় মিত্রদের নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
- জাপোরিঝঝিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে হামলা: এদিকে দেশটির জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী মিনিবাসে রাশিয়ার আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারীসহ ৩ জন নিহত হন। এই ঘটনায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে একই শহরে একটি বেসামরিক ভ্যানে আরেকটি হামলা চালানো হলে সেটিতে আগুন ধরে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খারকিভে গ্লাইড বোমা হামলা ও উভয় পক্ষের অবস্থান
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার আধুনিক গ্লাইড বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও অন্তত ১০ জন আহত এবং একটি পাবলিক ট্রাম ও ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ। তিনি আরও জানান, প্রথম হামলার এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আরেকটি গ্লাইড বোমা শহরে আঘাত হানলেও সৌভাগ্যবশত সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।
মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউক্রেন সরকারের দাবি, রাশিয়ার এই একতরফা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মস্কোও পাল্টা অভিযোগ করে আসছে যে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়া ও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায়, যদিও তা রাশিয়ার তুলনায় বেশ সীমিত। তবে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হামলা চালানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

















