হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর জোরালো পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কৌশলগত দৃঢ়তা পরীক্ষা করার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকিকে কখনোই জবাবহীন রাখবে না।” তিনি মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে আরও যোগ করেন, “নিরাপদে থাকতে চাইলে অবিলম্বে আমাদের এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।”
মার্কিন বিমান হামলা ও হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন ফাইটার জেটগুলো ইরানের ওপর এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ ও সুনির্দিষ্ট পাল্টা হামলা চালায়:
- প্রধান লক্ষ্যবস্তু: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের প্রাথমিক ও প্রধান হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অবস্থিত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense), গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।
- সেন্টকমের দাবি: মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অপারেশনটি ছিল তাদের সামরিক বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক ইরানি আগ্রাসনের একটি অত্যন্ত আনুপাতিক ও যৌক্তিক জবাব (Proportional Response)।
উত্তেজনার নেপথ্য কারণ ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
এই তীব্র সামরিক সংঘাত মূলত গত সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালীর আকাশে টহলরত একটি মার্কিন অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়:
- ড্রোন দিয়ে হামলার অভিযোগ: মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইরানের একটি সশস্ত্র ‘শাহেদ’ ড্রোন মূলত মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটিকে আঘাত বা ধাক্কা দিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেয়। যদিও দুই মার্কিন পাইলটকে একটি সামুদ্রিক ড্রোন নৌকার সাহায্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
- চুক্তি ভঙ্গের শঙ্কা: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত এপ্রিল মাস থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা সেই সমঝোতাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছে। বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এই কড়া ও আপসহীন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও অনেক বেশি জটিল, বিপজ্জনক ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


















