সান মারিনোকে হারিয়ে প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান দেশের বিপক্ষে পুরুষ জাতীয় দলের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী করেছিল. কিন্তু স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের মারাত্মক অভাব ও রক্ষণভাগের ভুলের কারণে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হলো না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের. ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ার মারগাওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ১-৩ গোলে হারিয়ে নিজেদের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে স্বাগতিক ভারত. এর ফলে ঋতুপর্ণা, তহুরা খাতুন ও আনিকাদের ভারত জয় করার পাশাপাশি হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো.
ম্যাচ বিশ্লেষণ ও গোলবন্যা
ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা. এই আসরে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা খাতুন. মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয় সুইডিশ প্রবাসী আনিকাকে, অথচ সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জয়ের নায়িকা সাগরিকাকে শুরুতে না খেলিয়ে ৭২ মিনিটে মাঠে নামানো হয়. ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পেয়ারি জাজার শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সুরভীর পায়ে লেগে গোলরক্ষক মিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ালে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত. পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে. আনিকার পাস থেকে তহুরার ডিফেন্সচেরা বল পেয়ে ঋতুপর্ণা দারুণ এক আড়াআড়ি শটে বল জালে পাঠান (১-১). তবে দ্বিতীয়ার্থের প্রথম মিনিটেই (৪৬ মিনিটে) পেয়ারি জাজার ক্রস থেকে সানফিদার চমৎকার হেডে আবারও এগিয়ে যায় ভারত (২-১). এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ৮৩ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগে কম সেরতো ভারতের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন.
সাফ টুর্নামেন্টের অতীত ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালের পর ফের সাফের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত, সেবার তারা নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল. অন্যদিকে, বাংলাদেশ গত ২০২২ (৩-১ গোলে) ও ২০২৪ (২-১ গোলে) সালের সর্বশেষ দুই আসরে নেপালের মাটিতে নেপালকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল. ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের অষ্টম আসরে ভারত টানা পাঁচটিসহ মোট ছয়বার শিরোপা জিতল এবং বাংলাদেশ জিতল দুবার. ভারতের মাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের. এর আগে ২০১৬ সালের ফাইনালে ভারতের মাটিতে এই ভারতের কাছেই ১-৩ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ এবং ১৯৯৯ সালে গোয়াতেই সাফ পুরুষ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে. এবারের আসরে ভারত অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খাওয়া গোলটিই ছিল পুরো টুর্নামেন্টে তাদের হজম করা একমাত্র গোল.



















