ঈদ ঘিরে সরকারের নেওয়া গণমুখী উদ্যোগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন. সোমবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন. তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র তিন মাস পূর্ণ হয়েছে এবং এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনকল্যাণের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে. প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় এবার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন.
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এবারের ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক সরকারের ১০টি বিশেষ গণমুখী পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন:
- দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা: সাপ্তাহিক ছুটির সাথে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করায় মানুষ পরিবার-পরিজনদের সাথে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন. মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যুর মতো কিছু মর্মান্তিক ঘটনা সরকারকে ব্যথিত করেছে.
- পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ: অংশীজনদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঈদের আগে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে. ফলে ঈদের আগে বকেয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি.
- দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা ছিল. ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লক্ষ, যা কোরবানি খাতে প্রথমবারের মতো পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করেছে. পাশাপাশি রাস্তার বদলে খোলা জায়গায় হাট বসানোয় যানজট কম হয়েছে.
- দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা: কোরবানি পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাঠপর্যায়ের এই কাজ পরিদর্শন করেন এবং বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়.
- গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা: ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি ছিল এবং লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ায় ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়. এছাড়া প্রথমবারের মতো রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত কোচ চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়.
- চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান: পশুবাহী ট্রাকে এবং হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত ভূমিকা রাখায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি.
- লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ: তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের সিংহভাগ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে.
- সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর ওপর নজরদারি ছিল. বিশেষ করে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক আলোচিত মহিষটিকে সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে.
- চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি: লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য আগেভাগে নির্ধারণ করায় অতীতে চামড়া রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এবার অনেক কমেছে.
- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা: বিশেষ টাস্কফোর্সের নিয়মিত বাজার তদারকির কারণে কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম খুচরা বাজারে হঠাৎ আকাশচুম্বী হওয়া রোধ করা গেছে.
মাহদী আমিন আরও বলেন যে, বিগত ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, তবে মানুষ বুঝতে পেরেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল. সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা.



















