মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্বিমুখী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগর দিয়ে নতুন করে তেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (BSC) আশা করছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছাবে।
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আটকে পড়া ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল ও কূটনৈতিক তৎপরতা
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজ ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় জাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় নেই। এই জটিলতা নিরসনে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
২. বিকল্প রুটে নতুন ১ লাখ টন তেল আমদানি
হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে সরকার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। এই বন্দরটি লোহিত সাগরের কাছে এবং হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ায় এটি পরিবহনে কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা নেই। আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার কথা রয়েছে।
৩. জ্বালানি প্রাপ্তির সম্ভাব্য হিসাব
এই ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর যে পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে:
- ডিজেল: ৫২,০০০ মেট্রিক টন
- পেট্রোল: ৩২,০০০ মেট্রিক টন
- ফার্নেস অয়েল: ৪৮,০০০ মেট্রিক টন
- কেরোসিন: ৪২,০০০ মেট্রিক টন
- অকটেন: ১৬,০০০ মেট্রিক টন
৪. ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও আমদানির প্রয়োজনীয়তা
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলমের মতে, এই বিশাল চালান দেশে পৌঁছালে সাময়িক সংকট কাটবে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। উল্লেখ্য যে, বিকল্প উৎস থেকে গত মার্চ মাসে মোট ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।
সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















