মঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত ৩, দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ১৯, ২০২৬ ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে একটি ইসলামিক কেন্দ্র ও ইসলামিক স্কুলে বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় এটি একটি চরম ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ (Hate Crime) হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে দৃঢ় ধারণা করা হচ্ছে। হামলার তাণ্ডব চালানোর পর দুই তরুণ বন্দুকধারীও নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ (ICSD) প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।

নিরাপত্তারক্ষীর সাহসিকতায় রক্ষা পেল শিশুরা, হামলাকারীরা কিশোর: সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগের প্রধান স্কট ওয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, “ইসলামিক কেন্দ্রের অবস্থান এবং মুসলিমদের টার্গেট করার ধরন বিবেচনায় আমরা এটিকে সুনির্দিষ্ট ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবেই তদন্ত করছি।” পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী দুজনই শ্বেতাঙ্গ পুরুষ এবং তাদের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর। প্রাথমিক ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা নিজেদের মাথায় গুলি করে আত্মঘাতী হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক কেন্দ্রের কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, ওই নিরাপত্তারক্ষীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে দুই বন্দুকধারী ভেতরে থাকা ইসলামিক স্কুলের ক্লাসরুমগুলোতে ঢুকতে পারেনি, ফলে শত শত শিশুর প্রাণ বেঁচে গেছে এবং শিশুরা শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

মেয়রের তীব্র নিন্দা, নিউইয়র্কেও সতর্কতা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: এই বর্বরোচিত হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “এই ইসলামিক কেন্দ্রটি মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্য প্রার্থনা, শিক্ষা এবং পারস্পরিক মিলনের একটি পবিত্র জায়গা। উপাসনালয়ে এমন কাপুরুষোচিত হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমাদের প্রগতিশীল শহরে কোনো ধরনের বর্ণবাদ বা ধর্মীয় ঘৃণার স্থান নেই। মুসলিম ভাইবোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগর প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।” এই ঘটনার পর কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও (NYPD) সতর্কতামূলকভাবে শহরের প্রধান প্রধান মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তিনি সান ডিয়েগোর পরিস্থিতির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়ার গ্রাফ বৃদ্ধি পাওয়ার মাঝেই এই রক্তক্ষয়ী হামলা মার্কিন মুসলিমদের মনে নতুন করে গভীর শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত