১. অন্তর্বর্তী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নির্দলীয় বা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
| নির্বাচনের সাল | সরকারের ধরণ | ফলাফল ও বিশেষত্ব |
| ১৯৯১ (৫ম সংসদ) | অন্তর্বর্তী সরকার (প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ) | বিএনপি জয়ী হয়। ইতিহাসে অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃত। |
| ১৯৯৬ (৭ম সংসদ) | তত্ত্বাবধায়ক সরকার (বিচারপতি হাবিবুর রহমান) | আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। প্রথমবারের মতো সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হয়। |
| ২০০১ (৮ম সংসদ) | তত্ত্বাবধায়ক সরকার (বিচারপতি লতিফুর রহমান) | বিএনপি-জামায়াত জোট জয়ী হয়। |
| ২০০৮ (৯ম সংসদ) | তত্ত্বাবধায়ক সরকার (ড. ফখরুদ্দীন আহমদ) | আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। এটি ছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। |
| ২০২৬ (১৩শ সংসদ) | বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) | আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে একই সাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। |
২. দলীয় সরকারের অধীনে বিতর্কিত নির্বাচনগুলো
বিপরীতে, দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলো প্রায়ই বর্জন ও কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত হয়েছে।
- ১৯৯৬ (৬ষ্ঠ সংসদ): বিএনপির অধীনে হওয়া একতরফা নির্বাচন, যা মাত্র ১১ দিন টিকেছিল।
- ২০১৪ (১০ম সংসদ): আওয়ামী লীগের অধীনে ‘বিনা ভোটের নির্বাচন’ (১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী)।
- ২০১৮ (১১শ সংসদ): আওয়ামী লীগের অধীনে ‘নিশিরাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত।
- ২০২৪ (১২শ সংসদ): আওয়ামী লীগের অধীনে ‘আমি-ডামি নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিত।
৩. ১৩শ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: নতুন যা থাকছে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য হতে যাচ্ছে দুটি বিশেষ কারণে:
- একই দিনে দুই ভোট: ভোটাররা তাদের এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে (জুলাই জাতীয় সনদ) ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ব্যালটে ভোট দেবেন।
- তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার স্থায়ী প্রত্যাবর্তন: ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় ফিরে এসেছে, যা আগামী ১৪শ সংসদ নির্বাচন থেকে স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য: ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনকেও দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাববিস্তারী ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।


















