পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যেখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত এই ফলাফল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এই জয়কে কেন্দ্র করে আগামী ৯ মে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তাদের প্রথম সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
ফল প্রত্যাখ্যান ও পদত্যাগে অনীহা নির্বাচনী ফলাফলে বিপর্যয়ের পরও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বুধবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে অন্তত ১০০টি আসন ‘চুরি’ করা হয়েছে এবং তিনি নৈতিকভাবে হারেননি। মমতা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে একে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণনাকালে তিনি শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এবং ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পরাজয়ের পর তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে।
আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের এই পালাবদল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীন সফরে গিয়ে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, সীমান্তে কোনো ধরনের ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা চললে বাংলাদেশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সাথে, তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের হবু বিজেপি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।



















