লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
National News Agency (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়াহ জেলার শুকাইন শহরে হামলায় তিনজন নিহত হন। এছাড়া কাফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দুজন এবং লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে বোমা হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নাবাতিয়াহ শহরের আল-কুদস চত্বর এবং টায়ার জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলা হিজবুল্লাহ-র লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ছোট ড্রোন ব্যবহার করে ট্যাংক ধ্বংসের নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে তারা, যাতে অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন, ডিসি-র মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। Al Jazeera-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে United Nations-এ নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং এই পরিস্থিতিকে “আসল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং কম মাত্রার যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ভেতরে Benjamin Netanyahu-এর ওপর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার চাপ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা



















