সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসার আশা নিয়ে এসে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। বিশেষ করে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) অপারেশনের উপকরণ ও ওষুধের তালিকায় পিষ্ট হচ্ছে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোটখাটো ফাটল থেকে শুরু করে হাত-পা কাটার মতো গুরুতর অপারেশনের আগে রোগীদের স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লম্বা খরচের তালিকা।
অপারেশনের নামে ‘তালিকা’ বাণিজ্য
হাসপাতাল সূত্রে অপারেশন বিনামূল্যে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। রোগীদের অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
- বাইরে থেকে সরঞ্জাম ক্রয়: সুই, সুতা, গজ, ইনজেকশন এমনকি হাড়ের স্ক্রু পর্যন্ত সবকিছুই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একটি সাধারণ স্ক্রু কিনতেই খরচ হচ্ছে ৩,৫০০ টাকার বেশি।
- হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের প্রভাব: অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভেতর বেসরকারি হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা আড়ালে বাণিজ্য করছেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তালিকার সরঞ্জামগুলো তারাই সরবরাহ করেন।
- অতিরিক্ত উপকরণের অপচয়: অনেক স্বজনের দাবি, তালিকায় থাকা সব উপকরণ অপারেশনে ব্যবহৃত হয় না। অতিরিক্ত সরঞ্জামগুলো পরে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের করুণ চিত্র
হাসপাতালের প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে আছে অসহায়ত্বের গল্প। খাট থেকে পড়ে যাওয়া শিশুর বাবা ইসমাইল হোসেন কিংবা অটো ব্রিক ফিল্ডে হাত হারানো যুবকের বাবা—সবারই একই কথা; অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত পৌঁছাতে ধার-দেনা করে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। গাজীপুর থেকে আসা এক পরিবারের ইতোমধ্যেই ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে, অথচ জমানো কোনো টাকা তাদের ছিল না। অন্যদিকে, ঝিনাইদহের মুদি দোকানদার জসিম উদ্দিনের মতো অনেককেই শয্যা না পেয়ে অপারেশন বা চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান এসব অভিযোগের বিপরীতে বলেন, “সারা দেশ থেকে আসা সড়ক দুর্ঘটনার রোগীদের আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হয়, সামান্য কিছু হয়তো রোগীদের কিনতে হয়।” বিছানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও তিনি দাবি করেন যে, কোনো রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় না।



















