জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদনকে আধুনিক ও লাভজনক করতে ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রমের আওতায় একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন করা ‘কৃষক কার্ড’ মূলত কৃষকদের ভাগ্য বদলে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত ১০টি বিশেষ সেবা: ১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ (বীজ, সার) বিতরণ। ২. সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান। ৩. স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ। ৪. সুলভ মূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ। ৫. সহজ শর্তে ও দ্রুত কৃষি ঋণ প্রাপ্তি। ৬. ফসল রক্ষা ও কৃষি বীমা সুবিধা। ৭. উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ। ৮. আধুনিক কৃষি বিষয়ক নিয়মিত প্রশিক্ষণ। ৯. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ। ১০. মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্যের আপডেট।
কৃষি উন্নয়নে সরকারের সাত দফা মহাপরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কৃষিখাত সংস্কারের সাতটি স্তম্ভ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বড় অংকের ভর্তুকি প্রদান। জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী ফসল নির্বাচনে সহায়তা করবে। বিশেষ করে সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা ও জলবায়ু মোকাবিলা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ছাড় করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫ লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (বারি, ব্রি, বিনা) শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকার উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে বিপণন ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে।



















