পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো ফল ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে। অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অনেক স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও দুই পক্ষের মৌলিক মতপার্থক্য ঘোচানো সম্ভব হয়নি। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যর্থতার কথা ঘোষণা করেছেন এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করেছে।
বৈঠক পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সমঝোতা না হওয়ার প্রধান কারণ
জেডি ভ্যান্সের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে একটি ‘চূড়ান্ত এবং সেরা’ প্রস্তাব রেখেছিল, কিন্তু ইরান তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
- পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি ‘সুদৃঢ় অঙ্গীকার’ চেয়েছিল, যা ইরান দেয়নি।
- অযৌক্তিক দাবি: অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক এবং বেআইনি’ দাবির কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরান মূলত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ছিল।
২. আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইয়ের তথ্যমতে, দীর্ঘ এই বৈঠকে বেশ কিছু জটিল ইস্যু টেবিল পর্যন্ত এসেছিল:
- হরমুজ প্রণালি: তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এই কৌশলগত জলপথটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা।
- পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি স্বীকৃতি।
- ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা: যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির অর্থ আদায় এবং অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া।
৩. পাকিস্তানের ভূমিকা ও আতিথেয়তা
আলোচনা ব্যর্থ হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জেডি ভ্যান্স বলেন, পাকিস্তান তাদের পক্ষ থেকে একটি অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করেছিল এবং এই ব্যর্থতার জন্য ইসলামাবাদ কোনোভাবেই দায়ী নয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষকে একটি অভিন্ন বিন্দুতে আনার চেষ্টা করেছিলেন।
৪. বৈশ্বিক প্রভাব ও অনিশ্চয়তা
এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ায় এখন মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে:
- যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি: গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। কোনো নতুন চুক্তি না হওয়ায় ওই তারিখের পর পুনরায় বড় ধরণের সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
- জ্বালানি তেলের বাজার: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এই ফলাফলকে ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের কাছে আর কোনো নতুন প্রস্তাব নেই। ফলে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণরূপে ২২ এপ্রিলের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা



















