আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা তখনই ভারতে পালিয়ে যান। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই রায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের জটিলতা আরও বৃদ্ধি করেছে। ভারত এখন পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেয়নি, যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি হাসিনাকে ফেরত দিয়ে বাংলাদেশের বিদ্রোহী রাজনৈতিক শক্তিকে বৈধতা দেবে বলে মনে করছে না। ভারত বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়, তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন শীতল অবস্থায় রয়েছে।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। তার পদত্যাগ ও প্রবাসে থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ভারতের জন্যও নানাভাবে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উচিত হাসিনার প্রত্যর্পণের এজেন্ডা ছেড়ে ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, এবং ভারতের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ইতিহাসও জটিলতা সৃষ্টি করছে। যদিও ভারত বাংলাদেশে মিত্রদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করছে, তবুও হাসিনার অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ কাঁটা হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















