দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানের চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। বর্তমানে তাঁরা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথা-তে অবস্থান করছেন।
নভোচারীদের ফিরে আসা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অবতরণ ও উদ্ধার অভিযান
নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত:
- অবতরণ স্থল: ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি আছড়ে পড়ে (Splashdown)।
- উদ্ধার প্রক্রিয়া: পানি থেকে প্রথমে তাঁদের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী নৌযানে তোলা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে তাঁদের সরাসরি নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথা-তে নিয়ে যাওয়া হয়।
২. নভোচারীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা
নাসার এন্ট্রি ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং জনসন স্পেস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, নভোচারীরা সবাই ‘খুশি এবং সুস্থ’ আছেন।
- প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ: জাহাজের ডেকে অবতরণের পর নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভারকে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা গেছে। জেরেমি হ্যানসেনকেও জাহাজের ডেকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে।
- চিকিৎসা পরীক্ষা: বর্তমানে জাহাজে থাকা চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার পর শরীরের ওপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
৩. পরবর্তী গন্তব্য: হিউস্টন
নাসার প্রধান লক্ষ্য এখন নভোচারীদের দ্রুত তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
- সময়সূচি: আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল (১২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে যেকোনো সময় তাঁরা টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে পৌঁছাবেন।
৪. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আর্টেমিস-৩
সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস-৩ (যা মানুষকে সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামাবে) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নাসা কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানের নভোচারীদের নাম ‘শিগগিরই’ ঘোষণা করা হবে। আর্টেমিস-২-এর এই সাফল্য নাসার পরবর্তী বড় লক্ষ্যের পথকে আরও সুগম করে দিল।
৫ দশকেরও বেশি সময় পর মানুষের আবার চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আসার এই ঘটনাটি মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।



















