ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
দুই নেতার আলোচনা ও বর্তমান সংকটের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘কার্যকর পরিকল্পনা’ ও অবাধ চলাচলের দাবি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিটের তথ্যমতে, কিয়ার স্টারমার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়।
- স্টারমারের অবস্থান: বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো সফরে থাকা স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের মাশুল বা টোল দিতে হওয়া উচিত নয়।
- ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, ইরান যদি এই প্রণালী পুনরায় নিরাপদভাবে খুলে না দেয়, তবে যুদ্ধবিরতি বিপন্ন হতে পারে।
২. ইরানের ‘টেলথ্রু’ বা টোল বুথ পরিকল্পনা
যুদ্ধের পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে এক নতুন ‘ম্যানেজমেন্ট’ বা ব্যবস্থাপনা চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- টোল প্রস্তাব: তেহরান চাচ্ছে প্রতিটি তেলের ট্যাঙ্কার থেকে ব্যারেল প্রতি অন্তত ১ ডলার হারে মাশুল সংগ্রহ করতে। এটি মূলত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি পুনর্গঠন তহবিল হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তারা।
- মুদ্রা: ইরান এই টোল বা মাশুল ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে (Yuan) নেওয়ার প্রস্তাব করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
৩. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি বিতর্ক
ইরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে পশ্চিমা দেশগুলো।
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): এই প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ইইউ বলেছে, মুক্ত বাণিজ্যের প্রধান নীতি হলো আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ চলাচল।
- অনিশ্চয়তা: জাপানের ‘মিতসুই ওএসকে লাইন্স’-এর মতো বড় কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, টোল এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের জাহাজ এই পথে পাঠাতে সাহস পাচ্ছে না।
৪. ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক আজ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে ইরান টোল আদায়ের দাবিতে অনড় থাকবে কি না, আর যুক্তরাষ্ট্রই বা এর বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজসহ কয়েকশ আন্তর্জাতিক জাহাজ এই প্রণালী পার হওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সংলগ্ন জলসীমায় অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















