মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর এবার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ বন্ধ রাখলে ইরানও তাদের সামরিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম স্থগিত করবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সামরিক অভিযান স্থগিতের শর্ত
আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত মূলত পাল্টা পদক্ষেপ।
- পারস্পরিক বিরতি: যদি ইরানের ওপর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ রাখা হয়, তবেই দেশটির সশস্ত্র বাহিনী তাদের অভিযান বন্ধ রাখবে।
- সতর্ক অবস্থান: আরাগচি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং তারা কেবল আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
২. হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী নিয়েও একটি ইতিবাচক ঘোষণা দিয়েছে তেহরান:
- নিরাপদ যাতায়াত: আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।
- সমন্বয়ের শর্ত: তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে—যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ কারিগরি সমন্বয় করতে হবে। কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেই এই সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে ইরান।
৩. মধ্যস্থতায় সাফল্যের ইঙ্গিত
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ইরানের এই সাড়াকে কূটনৈতিক অগ্রগতির বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের জন্য একটি বড় স্বস্তির সংবাদ।
৪. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আগামী ১৪ দিনকে দুই দেশের জন্যই একটি পরীক্ষামূলক সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো পক্ষ উসকানি না দেয়, তবে ট্রাম্পের উল্লেখ করা সেই ‘১০ দফা প্রস্তাব’-এর ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আজ সকাল থেকেই নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা প্রশমন বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আল-জাজিরা



















