বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের স্পিকার ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটকের ঘটনা ও তাঁর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আটকের বিবরণ
ডিবি পুলিশের একটি দল ধানমন্ডিতে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
- মামলা সংক্রান্ত তথ্য: তাঁকে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় বা কী কারণে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবি বা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
- জিজ্ঞাসাবাদ: বর্তমানে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. সংসদীয় ক্যারিয়ার ও অর্জন
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- দীর্ঘতম মেয়াদ: তিনি টানা তিন মেয়াদে (দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ) স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নির্বাচনী এলাকা: তিনি মূলত রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
৩. রাজনৈতিক পটভূমি ও পদত্যাগ
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে।
- পদত্যাগ: ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
৪. আইনি জটিলতা
গত বছরের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেমনই কোনো নিয়মিত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কেবল একজন দক্ষ স্পিকারই ছিলেন না, বরং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির প্রথম বাংলাদেশি চেয়ারপারসন হিসেবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর এই আটকের খবরটি বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



















