মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি বিশাল চালান।
বিপিসি ও বন্দর সূত্র থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নতুন আসা জাহাজ ও জ্বালানির পরিমাণ
আগামী বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নোঙর করার কথা রয়েছে:
- এমটি সেন্ট্রাল স্টার (অকটেন): আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৬,০০০ টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে আসছে। এটি মূলত ব্যক্তিগত যানবাহন ও পরিবহন খাতের চাহিদা মেটাবে।
- এমটি ইস্টার্ন কুইন্স (ফার্নেস অয়েল): একই দিনে ২৫,০০০ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে এই জাহাজটি বন্দরে পৌঁছাবে। এই জ্বালানিটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
২. বন্দরে বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে আরও দুটি বড় জ্বালানি জাহাজ অবস্থান করছে, যেগুলোর খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে:
- কুল ভয়েজার: নাইজেরিয়া থেকে আসা এই জাহাজটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহন করছে।
- গ্যাস জার্নি: চীন থেকে আসা এই জাহাজটি এলপিজি (LPG) নিয়ে এসেছে, যা রান্নার গ্যাসের বাজারে স্বস্তি ফেরাবে।
৩. বিপিসি-র অবস্থান ও সরবরাহ নিশ্চয়তা
বিপিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প রুটে এবং নিয়মিত শিডিউলে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
- স্বাভাবিক সরবরাহ: বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের যে মজুদ রয়েছে এবং নতুন করে যা আসছে, তাতে আগামী কয়েক মাস বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
- অগ্রাধিকার: বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
৪. দেশের বাজারে প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই নিয়মিত আগমন ও মজুদ বাড়ার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে এবং পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো ভেড়ার সাথে সাথেই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাসের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে।



















