বাংলাদেশে ডায়রিয়া এখনো একটি অবহেলিত কিন্তু মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পুষ্টিহীনতা এবং ডায়রিয়া একে অপরের পরিপূরক হিসেবে একটি ‘দুষ্টচক্র’ তৈরি করে, যা বিশেষ করে শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন এবং বছরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান।
এই স্বাস্থ্য সংকটের মূল কারণ ও প্রতিকারের উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- পুষ্টিহীনতা ও ডায়রিয়ার সম্পর্ক: পুষ্টিহীন শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যা ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আবার বারবার ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বের হয়ে যায়, ফলে রোগী আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। পুষ্টিহীন শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দ্রুত মৃত্যু ঘটাতে পারে।
- অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলামের মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে মারা যায়। বিশ্বে প্রতি বছর ৫ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ২০ হাজার শিশু এই কারণে প্রাণ হারায়।
- খাদ্য নিরাপদ রাখার ৫টি কৌশল:
- রান্নার স্থান ও হাত সর্বদা পরিষ্কার রাখা।
- কাঁচা খাবার (মাছ-মাংস) ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা।
- খাবার সঠিকভাবে ঢেকে রান্না করা।
- খাবার সংরক্ষণে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা।
- রান্না ও ধোয়ার কাজে সর্বদা নিরাপদ পানি ব্যবহার করা।
- সতর্কতা: বাজার থেকে ফল বা শাকসবজি কেনার সময় উজ্জ্বল কৃত্রিম রঙের বদলে স্বাভাবিক রঙের মৌসুমি পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা পুষ্টি কর্মসূচি ও টিকাদান কার্যক্রম চালালেও ব্যক্তিগত সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। ডায়রিয়া দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত খাবার স্যালাইন (ORS) গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



















