সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
- ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: হামলায় ঘাঁটিতে থাকা অন্তত একটি মার্কিন সামরিক বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঘাঁটির অবকাঠামোরও বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
- ইরানের কৌশল: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাদের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
- সেনা স্থানান্তর: ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বাধ্য হয়ে হাজার হাজার সেনাকে বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে। অনেক সেনাকে ইতিমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- হতাহতের পরিসংখ্যান: দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০৩ জন সেনা আহত হলেন।
হামলার পর সৌদি আরবের আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সরাসরি হামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটামের (৬ এপ্রিল পর্যন্ত) মধ্যেই উত্তেজনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশেষ করে আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে মার্কিন ঘাঁটি ত্যাগের যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, এই হামলা তারই প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



















