যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) বিকেলে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী থাকলেও চালক ও যাত্রীদের দ্রুত তৎপরতায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিকেল সাড় ৪টার দিকে যশোর-নড়াইল জাতীয় মহাসড়কের ফতেপুর দাইতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসের ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসটি বিকট শব্দে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
- দুর্ঘটনার সূত্রপাত: যশোর শহরের মণিহার এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে ফতেপুর এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনে আগুন দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি বিকট বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত বাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
- যাত্রীদের উদ্ধার: আগুন লাগার সাথে সাথে আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে দরজা এবং জানালা দিয়ে নিচে নেমে আসেন। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে বের হতে পারলেও বাসের ভেতরে থাকা তাঁদের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
- ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা: খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসের সিংহভাগ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
- পুলিশি তদন্ত ও মালিকপক্ষের অবহেলা: যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, বাসটি ছাড়ার আগেই চালক ইঞ্জিনে ত্রুটির কথা মালিকপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু মালিকপক্ষের জোরাজুরিতেই তিনি বাসটি নিয়ে রওনা দেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে বাসটি রাস্তায় নামানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



















