ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা আজ সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাবে। এই হুমকির পরপরই গ্রিনিচ মান সময় রবিবার রাত ১০টায় বাজার খোলার সাথে সাথে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) এবং নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড—উভয় তেলের দাম ১.৮ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে WTI-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার এবং ব্রেন্টের দাম ১১৩.৪৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে WTI এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ব্যারেল প্রতি ৬৭.০২ এবং ৭২.৪৮ ডলার, যা বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়, ফলে এই জলপথ বন্ধ হওয়া বা সেখানে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের স্থল অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির জানিয়েছেন, তারা একটি সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জরুরি মজুদ থেকে তেল বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিলেও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও আতঙ্কিত। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো সংস্থাগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।



















