ইরানের পক্ষ থেকে চালানো আকস্মিক ও শক্তিশালী মিসাইল হামলায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) রাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর দিমোনা ও আরাদে একাধিক ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। এই হামলায় শহর দুটির আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৮০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার মূল বিবরণ:
- আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) স্বীকার করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিমোনা ও আরাদ অভিমুখে আসা এই মিসাইলগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় ইরানি মিসাইল ইসরায়েলি সুরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হলো।
- আরাদে ক্ষয়ক্ষতি: শহরটির একটি জনবহুল এলাকায় মিসাইল আঘাত হানার ফলে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায় ১৫০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে হামলা: দিমোনা শহরের একটি ভবনে সরাসরি মিসাইল আঘাত হানায় ৩৩ জন আহত হয়েছেন। দিমোনা শহরটি ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের (Shimon Peres Negev Nuclear Research Center) পাশেই অবস্থিত। তবে পারমাণবিক কেন্দ্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ও বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান:
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রোববার সকালে তিনি হামলার শিকার শহর আরাদ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকে বলেন:
- তিনি এই হামলাকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
- নেতানিয়াহু বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরান এখন ইউরোপের গভীর অভ্যন্তরেও হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই লড়াইয়ে যোগ দেওয়া।
- তিনি দাবি করেছেন যে, ইরান সচেতনভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ইসরায়েল এর যথাযোগ্য জবাব দেবে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই তারা এই মিসাইল হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এই অঞ্চলে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা ও বিবিসি।



















