ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। গতকাল শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘কৌশলগত পদক্ষেপ’ মূলত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে আকাশচুম্বী দাম (বর্তমানে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলার) কমিয়ে আনার একটি চেষ্টা।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মূল শর্ত ও লক্ষ্য:
- সময়সীমা: এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখের আগে জাহাজে বোঝাই করা তেলের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
- সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য: মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ তেল মূলত চীন সস্তায় মজুদ করে রাখছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার ফলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র দেশগুলো এখন এই তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে, যা ইরানের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ ও চীনের মজুদ সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে।
- ইরানের ওপর চাপ: ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের তেলকেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে তেলের দাম না বাড়ে এবং তেহরান এই পরিস্থিতির অন্যায্য সুবিধা নিতে না পারে। তবে এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইরান সহজে ব্যবহার করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের অবস্থান ও সম্ভাবনা:
দীর্ঘ ছয় বছর (২০১৯ সাল থেকে) বন্ধ থাকার পর ভারত আবারও ইরানি তেল আমদানির বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ভারতের শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যেই এই তেল কেনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে:
- পেমেন্ট মেকানিজম: ভারতীয় শোধনাগারগুলো বর্তমানে মার্কিন ছাড়ের আওতায় পেমেন্ট বা অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং লজিস্টিক সুবিধার বিষয়ে ভারত সরকার ও ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।
- আগের অভিজ্ঞতা: রাশির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সময় ভারত যেভাবে দ্রুত বিপুল পরিমাণ রুশ তেল সংগ্রহ করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল, ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
- হরমুজ প্রণালির প্রভাব: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত বর্তমানে তেলের সংকটে রয়েছে। সাগরে ভাসমান এই ইরানি তেল ভারতের জন্য একটি বড় লাইফলাইন হতে পারে।
এদিকে ইরান এই মার্কিন দাবির বিরোধিতা করে বলেছে, তাদের কাছে সাগরে কোনো ‘বাড়তি’ বা ‘সার্প্লাস’ তেল নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য কেবল বাজার শান্ত করার একটি অপকৌশল। তবে স্যাটেলাইট চিত্র ও বাজার বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর (যেমন কেপলার ও ভর্টেক্সা) তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন পর্যন্ত সমুদ্রসীমায় কয়েক শ ট্যাঙ্কারে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



















