মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আজ রবিবার (৮ মার্চ) কুয়েতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি (KPC) এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানি হুমকির প্রেক্ষিতে তারা সতর্কতামূলকভাবে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ কুয়েত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ।
একই দিনে কুয়েতের আকাশসীমায় ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এ ছাড়াও, আজ ভোরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কুয়েতের দুই সীমান্ত রক্ষী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও কাতারেও আজ নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করা অন্তত ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে কাতারও তাদের আকাশসীমায় ইরানি মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তারা আরও জোরালো পাল্টা আঘাত হানবে। এই পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এমজে



















